khelashree award: khelashree award given away by wb govt – খেলাশ্রীতে মিলে গেল সব খেলা, সব প্রজন্ম

রূপক বসু

যেন ইস্টবেঙ্গলের ডার্বি জয়ের সেলিব্রেশন। মঞ্চ থেকে নেমে ভিভিআইপির ছোট্ট করিডর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন জীবনকৃতি সম্মান পাওয়া সুকুমার সমাজপতি। পিছন থেকে এসে ধরলেন শ্যাম থামা। সঙ্গে ইস্টবেঙ্গল কর্তা দেবব্রত সরকার। ক্ষণিকের আড্ডায় উঠে এল রবিবারের ডার্বি। সুকুমার বলে উঠলেন, ‘জবি ছেলেটা কিন্তু দারুণ।’

অবশ্য মঞ্চের আড্ডার কাছে সেটা যেন কিছুই নয়। সেখানে সুকুমার সমাজপতির হাত ধরে দাঁড়িয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরা যে এক পাড়ারই দুই প্রজন্ম। কালীঘাটের যে পাড়ায় মমতার বাড়ি, সেখানেই শৈশব থেকে তারকা হয়ে ওঠা সুকুমারের। ‘পাড়ার মেয়ে’ মমতার আতিথেয়তা কী ভাবে ব্যাখ্যা করবেন, প্রথম দিকে বুঝতেই পারছিলেন না ফুটবলের কিংবদন্তি। মুখ্যমন্ত্রীও বোনের মতো আপন করে নিলেন সুকুমারদাকে।

জাম্পকাটে মঞ্চের দৃশ্যে আবার ফুটবল থেকে ক্রিকেট। আরও চমক, মন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্লার সঙ্গে একেবারে সংগঠকের ভূমিকায় বাংলা অধিনায়ক মনোজ তিওয়ারি। হাতে হাতে এগিয়ে দিচ্ছেন পুরস্কারপ্রাপকদের জন্য উত্তরীয়, স্মারক। যখন পুরস্কার নিতে এলেন রাজু মুখোপাধ্যায়, অরূপ ভট্টাচার্য, রণদেব বসু, তখন যেন কয়েক প্রজন্মের একফালি বাইশ গজ উঠে এল নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়ামের মঞ্চে।

পুরস্কার নিচ্ছেন পরিমল দে।

রাজ্য সরকারের উদ্যেগে খেলাশ্রী প্রকল্পের পুরস্কার প্রাপ্রকদের অনুষ্ঠানে সোমবার সকালে এ ভাবেই তৈরি হচ্ছিল বাংলার খেলার মন ভালো করে দেওয়া কোলাজ। সব ধরনের খেলার নানা বয়সের খেলোয়াড়দের ভিড়ে মঞ্চে তখন তারার মেলা। সেই সব খেলার মাঝে আসার তৃপ্তি ছুঁয়ে গেল সুকুমারের গলায়। মঞ্চ থেকে নেমে হাঁটতে হাঁটতে ধীর গলায় শোনালেন, ‘এ প্রাপ্তির কোনও তুলনা হয় না। নিজের ঘরে প্রাপ্তির মতো। আমার জীবনে এ এক অন্য সার্থকতা।’ একটু থেমে যোগ করলেন, ‘আরও ভালো লাগছে, সব ধরনের খেলার মানুষরাই এখানে উপস্থিত। যাঁদের অনেককে নামে চিনতাম, তাঁদের সঙ্গে আলাপ করে ভালো লাগছে।’

আর এক জীবনকৃতি সম্মানে ভূষিত টেনিসের প্রাক্তন ডেভিসকাপার জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ও আপ্লুত। গলা থেকে বেরিয়ে এল, ‘আমি আগে এক মাত্র ভারতীয় হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল টেনিস ফেডারেশন থেকে লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট সম্মান পেয়েছি। তবে নিজের রাজ্য থেকে পাওয়ার আনন্দই আলাদা। আরও ভালো লাগছে ফুটবল, ক্রিকেটের বাইরেও কোনও প্লেয়ারকে বেছে নেওয়ায়। কারণ এটা মানতে দ্বিধা নেই, আমাদের এখানে ফুটবল, ক্রিকেটের খেলোয়াড়ই বেশি।’

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যেপাধ্যায় বারোটা নাগাদ মঞ্চে আসার আগেই শুরু হয়ে যায় অনুষ্ঠান। তখন পুরস্কার দেওয়ার দায়িত্বে গুরবক্স সিং, আখতার আলি, শ্যাম থাপারা। বাংলার ফুটবলের জুটি মানস ভট্টাচার্য-বিদেশ বসুকে দেখা গেল অতিথি অ্যাপায়নের দায়িত্বে। বিয়ে বাড়ির বড় কর্তার মতো সব দিকে সজাগ নজর ছিল ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের।

শুধু প্রাক্তনদের ভিড় নয়। এ যেন সব প্রজন্মকে মিলিয়ে দেওয়ার সকাল। তাই পুরস্কার প্রাপকদের মধ্যে পরিমল দে যেমন ছিলেন, তেমনই ছিলেন পিন্টু মাহাতো। আবার ব্লেজার আর উত্তরীয়তে একফ্রেমে বন্দি গুরু-শিষ্যা জয়দীপ কর্মকার ও মেহুলি ঘোষ। ঝুলন গোস্বামীর কোচ স্বপন সাধু থেকে ঈশান পোড়েল, মনোজ কোঠারি থেকে সপ্তশৃঙ্গ বিজয়ী সত্যরূপ সিদ্ধান্ত, প্রাক্তন রেফারি সুধীন চট্টোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে বাংলার খেলার আকাশ নেমে এল জমিতে।

বিশেষ সম্মান পেলেও এশিয়ান কাপ জয়ী স্বপ্না বর্মণকে এ দিনের অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি। তবে নেই-এর সংখ্যা খুবই কম। ছিলেন দিব্যেন্দু বড়ুয়া। মুখ্যমন্ত্রী উদ্বোধন করলেন তাঁর দাবা অ্যাকাডেমি।

এক কথায়, মহাসমুদ্রের ঢেউয়ে অনেক খেলা, অনেক প্রজন্ম মিলেমিশে একাকার।




Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

Sony Norde: i could not play as desired in kolkata derby: sony norde – ব্যর্থতা স্বীকার সোনির

এই সময়: ফিরতি বড় ম্যাচে তিনি যে চূড়ান্ত ফ্লপ, কবুল করে নিলেন সোনি নর্দে। সোমবার ...